মনসুর আহমদ (বড়লেখা) মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মৌলভীবাজার–১ বড়লেখা–জুড়ি আসনে এখন পুরোদস্তুর নির্বাচনী আমেজ। সকাল থেকে গভীর রাত—মাইকিং, পথসভা, উঠান বৈঠক আর গণসংযোগে সরগরম পুরো এলাকা। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে মাঠ।
এই আসনে এবার ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন মোট পাঁচজন প্রার্থী। এর মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও প্রতিযোগিতার উত্তাপ কমেনি—বরং লড়াই আরও টানটান।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দীন আহমদ মিঠু ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। উন্নয়ন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং প্রতিটি পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। তাঁর প্রচারণায় ভিড় জমাচ্ছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মাঠে সক্রিয় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম। ন্যায়বিচার, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, ঘুষ-দুর্নীতি ও চুরি বন্ধ করে বড়লেখা–জুড়িকে আধুনিক করার অঙ্গীকার করছেন তিনি। মানবিক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের কাছে ছুটে চলছেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ আল ইসলাহর স্বতন্ত্র প্রার্থী মুফতি বেলাল আহমদ কাপ-পিরিছ প্রতীক এবং আহমদ রিয়াজ লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পথসভা ও উঠান বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারাও।
ভোটারদের মাঝেও আলোচনা তুঙ্গে। সাধারণ ভোটারদের কণ্ঠে একটাই কথা—যিনি সবসময় পাশে থাকবেন, সৎ হবেন এবং বাস্তব উন্নয়ন করবেন, তাকেই তারা ভোট দেবেন। দল নয়, কাজই হবে এবার মূল বিবেচ্য—এমনটাই বলছেন অনেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে চা শ্রমিকদের ভোট বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি সনাতনী ভোটারদের সিদ্ধান্তও বদলে দিতে পারে পুরো নির্বাচনী চিত্র। ফলে শেষ পর্যন্ত ফল কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।
দিন-রাত প্রচারণায় মুখর বড়লেখা–জুড়ি। প্রতিশ্রুতি আর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনছেন ভোটাররা। এখন শুধু অপেক্ষা—শেষ হাসি হাসবেন কে? মৌলভীবাজার–১ আসনের মানুষ কাকে বেছে নেবেন তাদের আগামী সংসদ সদস্য হিসেবে, সেটাই দেখার বিষয়।
Leave a Reply